কুতুবদিয়া হাসপাতাল ও একজন মাহমুদ

নজরুল ইসলাম , কুতুবদিয়াঃ কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির স্বাস্থ্য সেবা পূর্বের তুলনায় উন্নতি করেছে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব মহামারি কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতেও দ্বীপের দেড় লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে যাচ্ছে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নিয়মিত দ্বায়িত্ব পালন করছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকবৃন্দ। এখন অর্থোপেডিক্স এর মত ব্যয়বহুল চিকিৎসাও ঘরে বসেই পাচ্ছেন দ্বীপবাসী বিনে পয়সায়। দীর্ঘদিন ধরে ঘাড়, কাঁধ ও কনুই,পিঠ,হাত ও কব্জি,পা ও গোড়ালি এবং হাঁটুসহ হাড়ের যে কোন সমস্যায় কষ্ট পাওয়া রোগীদের বিনে পয়সায় অপারেশনসহ প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হচ্ছে এ হাসপাতালে। এমনকি ছোট-খাটো টিউমার অপসারণ করা হচ্ছে বিনে পয়সায়।
হাসপাতাল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ইর্মাজেন্সীর বেড়ে পিঠের টিউমার অপসারণ করা হচ্ছে ৬৫ বছর বয়সী এক রোগীর। নাম মনজুর আলম। তিনি পিঠের একটি টিউমার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট পাচ্ছিলেন। বিনে পয়সায় চিকিৎসা পেয়ে তিনি মহা খুশি।
তারমত এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হওয়া রোগীর সংখ্যা শতাধিক বলে জানিয়েছেন বিনে পয়সায় সেবা প্রদান করা মানবিক চিকিৎসক ডাঃ মাহমুদুল হাসান। হাড়ের সমস্যা নির্ণয়; আহত ব্যক্তির ড্রেসিং করানো; প্লাস্টার করা; হাড়ের সমস্যার জন্য প্রয়োজনে সার্জারি করা এবং হাড়ের সমস্যার রোগীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়াসহ নিয়মিত সেবা প্রদানের কথাও জানিয়েছেন তিনি। জানা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করে ৩৯ তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বছরের শুরুর দিকে যোগদান করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে এমএস থিসিস পার্ট (অর্থোপেডিক্স)- এফসিপিএস পার্ট-২ সমাপ্ত করছেন। কুতুবদিয়া হাসপাতালে যোগদান করার পর থেকে এ পর্যন্ত অর্থোপেডিক্সের প্রায় দেড়শতাধিক রোগীকে বিনে পয়সায় অপারেশন সহ চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন এ চিকিৎসক। চেম্বারে নয় হাসপাতালে সেবা দিতে সাচ্ছন্দবোধ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডাঃজাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা পূর্বের তুলনায় অনেক উন্নত। আধুনিক অনেক যন্ত্রপাতি সংযোজন হয়েছে হাসপাতালে। করোনা পরিস্থিতিতে স্থাপন করা হয়েছে ডক্টর সেফটি চেম্বার। তিনি বলেন,করোনা ঝুঁকিতেও দ্বীপের মানুষকে নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকবৃন্দ।পাশাপাশি অর্থোপিডিক্সের একজন চিকিৎসক নিয়মিত ছোট ছোট অপারেশনও করছেন হাসপাতালে। এ ধরনের চিকিৎসক সবসময় পাওয়া যায় না। দেশে উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে না এসে ঘরে বসে ডাক্তারের পরামর্শ ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চললে নিরাপদ থাকা যাবে বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*